গত
মৌসুমে জয়ের দেখা না পাওয়া ঢাকা বিভাগীয় দলের মৌসুমই শুরু হলো জয় দিয়ে-
এটা নিয়ে অবশ্য ক্রিকেটীয় রোমান্টিসিজমের কোনো সুযোগ নেই। বাঁহাতি
সাঞ্জামুল ইসলাম ৫ উইকেট নিয়েছেন বটে, তবে তাঁর কীর্তি আড়াল পড়ে গেছে দলের
হারে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রাজশাহীর বিপক্ষে তাদের ১২৭ রানের জয়ের পেছনে সেই
বাজে ক্রিকেটের গল্প- রাজশাহীর চেয়ে ঢাকা কিছুটা কম বাজে ক্রিকেট খেলেছে!
তবে ভালো ক্রিকেটের প্রদর্শনী গতকালও অব্যাহত ছিল ঢাকার বাইরের তিনটি
ম্যাচে। খুলনায় আগের দিন ঝড়ো সেঞ্চুরির পর গতকাল হ্যাটট্রিক করেছেন
বরিশালের অফস্পিনার সোহাগ গাজি। বগুড়ায় তামিম ইকবাল না পারলেও মৌসুমের
প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন ঢাকা মেট্রোর মার্শাল আইয়ুব। সেই ম্যাচে
সেঞ্চুরি করেছেন তাঁর সতীর্থ মেহরাব হোসেন জুনিয়র। আর রংপুরে ব্যক্তিগত
কোনো কীর্তি .......................না হলেও স্বাগতিকদের মতো টেস্ট মেজাজের ব্যাটিং করেছে সিলেটও।
গতকাল মাথায় পুরনো ব্যথা নিয়েও ব্যাট হাতে নেমেছিলেন মুশফিকুর রহিম। কিন্তু বাঁচাতে পারেননি রাজশাহীর হার। জেতার জন্য ২৬১ রান তৃতীয় দিনের উইকেটে খুব বেশি নয়। বিশেষ করে যেখানে রাজশাহীর অধিনায়ক নিজেই ম্যাচের পর বলেছেন, 'প্রথম দিন উইকেট কিছুটা কঠিন ছিল। কিন্তু আজ সে রকম মনে হয়নি।' কিন্তু মুশফিকের মূল্যায়নের সঙ্গে তাঁর ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিংয়ের কোনো মিল নেই। টপ অর্ডারের মিজানুর রহমান, জহুরুল ইসলাম ও জুনায়েদ সিদ্দিক নতুন বল সামলাতে গিয়ে যেরকম নাচানাচি করলেন তাতে ঢাকার শাহাদাত হোসেন এবং মোহাম্মদ শরিফকে মনে হচ্ছিল কোর্টনি ওয়ালশ ও কার্টলি অ্যামব্রোসের মতো বিধ্বংসী! প্রথম দুজনকে মনে হলো আউট হয়ে মুক্তির আনন্দই পেয়েছেন। আর অলস ভঙ্গিতে দৌড়ে রান আউট হওয়া জুনায়েদই কিনা জাতীয় দলের ট্রেনারের বিচারে সবচেয়ে ফিট ক্রিকেটার! দলীয় ৩০ রানেই এই তিনজন আউট। অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে মুশফিক যখন আউট হন তখন রাজশাহীর স্কোর মাত্র ৭৮। তবু চ্যাম্পিয়নদের দ্বিতীয় ইনিংস ১৩৩ রানে গেছে দশ নম্বরে নেমে শফিউল ইসলামের ৪৪ রানের কল্যাণে। চোটের কারণে কালও মাঠে নামতে পারেননি সাকলাইন মুশতাক। অবশ্য এঁদের দোষ কী? আসন্ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের আগে যাঁদের ব্যাটে রানের প্রত্যাশা সবার, সেই মাহমুদ উল্লাহ কিংবা রকিবুল হাসানরা ব্যর্থ হয়েও জয়ী দলে। অবশ্য শেষ ইনিংসে মুশফিকেরটিসহ ৪ উইকেট নিয়ে ঢাকার নায়ক মাহমুদ উল্লাহ।
৭৬ বলে সেঞ্চুরির পর ২৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় দিনটাকে নিজের করে রেখেছিলেন সোহাগ গাজি। সে তুলনায় এক দিনে ৩ উইকেট প্রাপ্তি এমন কিছু নয়। কিন্তু সোহাগের এই ৩টি উইকেটই টানা তিন বলে। বোলিংয়ে ৫ উইকেট পাওয়া তাপস ঘোষ একাই কাঁধে বয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন খুলনাকে। নিজের ২৯তম ওভারের প্রথম বলে তাঁকে বিদায় করেন সোহাগ। পরের দুই বলে রুবেল হোসেন ও আল আমিনকে ফিরিয়ে দিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করার পাশাপাশি প্রথম ইনিংসে পিছিয়ে থাকা বরিশালের সামনে সরাসরি জয়ের পথও খুলে দেন সোহাগ। দিনের শেষভাগে ২ উইকেটে ৯৫ রান তুলে ফেলায় আজ আরো ১৬২ রান করলেই জিতে যাবে সোহাগের দল।
এদিকে মার্শালের সেঞ্চুরিতে আগের দিনই চট্টগ্রামের পাহাড়সম প্রথম ইনিংস ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছিল ঢাকা মেট্রো। গতকাল সেই সম্ভাবনারই বাস্তবায়ন দেখল বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম। প্রায় সাড়ে আট ঘণ্টা ব্যাটিংয়ে মেট্রোর মার্শাল আউট হয়েছেন ২০৯ রান করে। এর আগে মেহরাবের সঙ্গে তাঁর ৩১১ রানের চতুর্থ উইকেট জুটিকে অনায়াসে নতুন রেকর্ড বলে দেওয়া যায়। মার্শাল-মেহরাব আউট হয়েছেন, তবে ক্রিজে আছেন এরই মধ্যে পঞ্চাশ পেরিয়ে যাওয়া তাসামুল হক ও সগির হোসেন। তাতে ৫ উইকেট অক্ষত রেখেই চট্টগ্রামের প্রথম ইনিংসের চেয়ে ৯৮ রানে এগিয়ে গেছে মেট্রো। নিশ্চিত ড্রয়ের দিকে এগোতে থাকা ম্যাচের শেষ দিনে ফিল্ডিংয়ের ক্লান্তি থেকে চট্টগ্রামকে মুক্তি দেওয়ার কোনো লক্ষণ ঢাকা মেট্রোর ক্যাম্পে নেই!
নাঈম ইসলামের সেঞ্চুরি কিংবা এনামুল হক জুনিয়রের ৫ উইকেট ছাড়া ব্যক্তিগত কীর্তি নেই রংপুরের ক্রিকেট গার্ডেনে। কিন্তু আছে জীবন বাজি রেখে ক্রিজে পড়ে থাকার মানসিকতার একাধিক উদাহরণ। আগের দিন ১৩৭ রানের জন্য সাত ঘণ্টার ব্যাটিং করেছিলেন নাঈম। আর গতকাল সিলেটের অধিনায়ক অলক কাপালি ৭৫ রান করেছেন প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টায়। প্রায় একই সময়ে ৩০ রান করেছেন গোলাম মাবুদ। এমনকি ৯ এবং ১০ নম্বরে নামা আবুল হাসান ও এনামুল জুনিয়ররাও খেলেছেন এক শরও বেশি মিনিট! তাতে অল আউট হওয়ার আগে ১৪৭ ওভারে সিলেটের ৩২৩ রানের ইনিংসকে গতি মন্থরতার জন্য দুষতে পারেন অনেকে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ঢাকা-রাজশাহী : ঢাকা ১১৬ ও ২য় ইনিংস ৯১ ওভার ২২২/১০ (মজিদ ৬৪, নুুরুল ৬২; সাঞ্জামুল ৫/১২৯)। রাজশাহী ১৭৮/৮ ডিক্লে. ও ২য় ইনিংস ৪২.২ ওভার ১৩৩/৯ (মুশফিক ২৬, শফিউল ৪৪; মাহমুদ উল্লাহ ৪/২৯)। ফল : ঢাকা ১২৭ রানে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ : মোশারফ হোসেন রুবেল (ঢাকা)।
খুলনা-বরিশাল : খুলনা ৩১৪ ও ২য় ইনিংস ৭০.৩ ওভার ২২০/১০ (তাপস ঘোষ ৭৬, ডলার ৪১*; সোহাগ ৭/৭৯, মনির ২/৪২)। বরিশাল ২৭৮ ও ২য় ইনিংস ৩৫ ওভার ৯৫/২ (রাবি্ব ব্যাটিং ৫৪, ইফতেখার ব্যাটিং ৭)।
ঢাকা মেট্রো-চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম ৪১১। ঢাকা মেট্রো ১৫১ ওভার ৫০৯/৫ (মার্শাল ২০৯, মেহরাব জুনিয়র ১২২, তাসামুল ব্যাটিং ৫৯, সগির ব্যাটিং ২০; কামরুল ২/৭৮, নুর হোসেন ২/১২৯)।
রংপুর-সিলেট : রংপুর ২৮৫ ও ২য় ইনিংস ৫ ওভার ১০/০ (তারিক ব্যাটিং ৪, লিটন ব্যাটিং ৬)। সিলেট ১ম ইনিংস ১৪৭ ওভার ৩২৩/১০ (অলক ৭০, আবুল হাসান ৪০; আলাউদ্দিন ২/৫৮, আরিফুল ৩/৫১)।

No comments:
Post a Comment