* ওয়েস্ট ইন্ডিজ আজ ঢাকায় আসছে *বাংলাদেশের সর্বসাকল্যে টেস্ট জয় মাত্র তিনটি। তার দুটিই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। অন্য জয়টি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়। পরিসংখ্যানের চিচিং ফাঁকে টেস্টে বাংলাদেশের সেরা পারফরম্যান্স ক্যারিবীয়দের বিপক্ষেই। ২০০২ সালে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো টেস্ট সিরিজে উইন্ডিজের মুখোমুখি হয়েছিল নিজেদের মাটিতেই। তারপর এখন পর্যন্ত চারটি সিরিজের আটটি টেস্টে দুটি জয়ের বিপরীতে হার চার ম্যাচে এবং ড্র দুটিতে। মানতেই হবে, বাংলাদেশের গোটা টেস্ট পারফরম্যান্সের বিচারে এটা অবশ্যই ভালো। সেই ক্যারিবীয়রাই ফের বাংলাদেশ সফরে আসছে আজ। ড্যারেন স্যামির নেতৃত্বে দুটি টেস্ট, পাঁচটি ওয়ানডে এবং একটি মাত্র টি-টুয়েন্টি ম্যাচ খেলতে আজ সকালেই বাংলাদেশে পৌঁছবে ব্রায়ান লারার উত্তরসূরিরা। দু’দলের প্রথম টেস্ট শুরু হবে ১৩ নভেম্বর ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে।
সবশেষ গত বছরই বাংলাদেশ সফরে এসেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অধিনায়ক ছিলেন স্যামিই। সেবার দুই টেস্টের [........]
সিরিজ ১-০-তে জিতেছিল সফরকারীরা। বাংলাদেশে আসার আগে ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজে নিউজিল্যান্ডকে হারায় উইন্ডিজ। তারপর সম্প্রতি ক্যারিবীয়রা জিতেছে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা। তাই বাংলাদেশ ঘরের মাঠে খেললেও হিসাবে ফেভারিট উইন্ডিজই। আইসিসির টেস্ট র্যাঙ্কিংয়েও এগিয়ে তারা। তাতে উইন্ডিজ সাত এবং বাংলাদেশ সবার নিচে নয় নম্বরে।
তবে উইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশ মোটামুটি লড়াকু ক্রিকেটই খেলে, এটা সত্যি। দু’দলের খেলোয়াড়দের তুল্যমূল্য পারফরম্যান্স বিচার করলে তার প্রমাণ মেলে। আট টেস্টে যে আটজন খেলোয়াড় ম্যাচসেরা হয়েছেন তার চারজন বাংলাদেশের। বাকি চার ওয়েস্ট ইন্ডিজের। মানে আধাআধি। বাংলাদেশের চার ক্রিকেটার হলেন-অলক কাপালি, তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান এবং ইলিয়াস সানি। উইন্ডিজের চার ক্রিকেটার হলেন জার্মেইন লসন, ক্রিস গেইল, রামনরেশ সারওয়ান এবং কার্ক এডওয়ার্ডস।
২০০২ সালে চট্টগ্রামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশ হেরেছিল ৭ উইকেটে। কিন্তু ম্যাচসেরা হয়েছিলেন অলক কাপালি। প্রথম ইনিংসে করেছিলেন ২ রান। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে তার ব্যাট থেকে বেরোয় ম্যাচ সর্বোচ্চ ৮৫ রান। এটাই তাকে এনে দেয় ম্যান অব দ্য ম্যাচের ট্রফি। চার ম্যাচসেরা খেলোয়াড়দের ম্যাচে বাংলাদেশ শুধু এ একটি ম্যাচই হেরেছিল। বাকি দুই ম্যাচে জয় এবং একটি ড্র।
২০০৯ সালের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর বাংলাদেশের জন্য এখনও সুখের অনুরণন ছড়ায়। কারণ ওই সিরিজেই বাংলাদেশ বিদেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র টেস্ট সিরিজ জেতে। দুই টেস্টের সিরিজে বাংলাদেশ ২-০ ব্যবধানেই ক্যারিবীয়দের হোয়াইটওয়াশ করে। যদিও মূল খেলোয়াড়দের বয়কটের কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে খেলেছিল। তবে সেই দলে ছিলেন স্যামি এবং পেসার টিনো বেস্ট। যারা এবার দলে রয়েছেন। ছিলেন পেসার কেমার রোচও। যিনি এবার বাংলাদেশে আসার ঠিক আগে ইনজুরির কারণে দল থেকে বাদ পড়েছেন।
কিংসটাউনে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ জিতেছিল ৯৫ রানে। সেন্ট ভিনসেন্টের আরনস ভেল মাঠে ওপেনার তামিমের ব্যাট থেকে প্রথম ইনিংসে এসেছিল ১৪ রান। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে তার ব্যাটের দ্যুতি ছড়ায় ১২৮ রানের একটি অনবদ্য ইনিংসে। সেটাই মূলত বাংলাদেশের জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিল। এরপর ২৭৭ রানের টার্গেট তাড়া করতে গিয়ে উইন্ডিজ গুটিয়ে যায় ১৮১ রানে। বিদেশের মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়ের আনন্দে ভাসে বাংলাদেশ। তাতে বোনাস তামিমের ম্যাচসেরার ট্রফি।
সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট হয়েছিল গ্রেনাডার সেন্ট জর্জের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে। সেই টেস্টও বাংলাদেশ জেতে ৪ উইকেটে। জয়ের নায়ক সাকিব আল হাসান। ব্যাটে-বলে চৌকস পারফরম্যান্সে নিজের অলরাউন্ডার পরিচয়টাই ক্রিকেটবিশ্বকে জানান তিনি। উইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে ৩ উইকেট নেন ৫৯ রানে। রান করেন ১৬। দ্বিতীয় ইনিংসে স্বাগতিকদের ধসিয়ে দিতে সাকিবই নেন প্রধান ভূমিকা। ৭০ রানে নেন ৫ উইকেট। তারপর জয়ের জন্য ২১৫ রান তাড়া করে বাংলাদেশকে সাফল্যের বন্দরে পৌঁছে দেন সাকিবই। খেলেন অপরাজিত ৯৬ রানের একটি অমূল্য ইনিংস। ম্যান অব দ্য ম্যাচের ট্রফির জন্য তাই সাকিব ছাড়া আর কারও নাম জুরিদের ভাবতেই হয়নি। শুধু ম্যাচসেরাই নন, সাকিব হন সিরিজসেরা খেলোয়াড়ও।
সবশেষ ২০১১ সিরিজে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের পক্ষে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল বাঁহাতি স্পিনার ইলিয়াস সানির। অভিষেক টেস্টটি তিনি নিজের করে নিয়েছিলেন। ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট ইনিংসেই ৯৪ রানে ৬ উইকেট নিয়ে সবার নজর কাড়েন সানি। উইন্ডিজের অসমাপ্ত দ্বিতীয় ইনিংসে নেন আরও ১টি উইকেট। বৃষ্টিবিঘ্নিত টেস্টটি ড্র হলেও ম্যাচসেরার ট্রফিটি তার ক্যারিয়ারের সেরা সংগ্রহ হিসেবেই ড্রয়িংরুমে সাজিয়ে রেখেছেন সানি-তাতে নেই কোনো সন্দেহ।

No comments:
Post a Comment