* প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে উভয় ইনিংসে তামিমের সেঞ্চুরি *যেভাবে খেলছিলেন, তাতে লক্ষ্য পূরণ হয়ে যেতে পারত। কিন্তু হয়নি। ডাবল সেঞ্চুরির দোরগোড়ায় গিয়েও তা ছুঁতে পারেননি তামিম ইকবাল। হতাশায় মুষড়ে না পড়লেও বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে প্রথম ইনিংসে মাত্র আট রানের আক্ষেপ ছিল চট্টগ্রাম ওপেনারের। সে আক্ষেপ হয়তো মেটেনি। তবে সুদাসলে তার চেয়ে বেশিই পূর্ণ হয়েছে। প্রথম ইনিংসে লক্ষ্য পূরণ না হওয়ার দুঃখকে জয় করার জন্যই হোক, কিংবা খুব ভালো ফর্মে থাকার জন্যই হোক। দ্বিতীয় ইনিংসে আবার জ্বলে উঠেছেন তামিম। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে উভয় ইনিংসে শতরানের কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। ম্যাচে জোড়া সেঞ্চুরির এই এলিট তালিকায় তামিম পঞ্চম বাংলাদেশি ক্রিকেটার। যে কোন ফর্মের ক্রিকেটে এমন কৃতিত্ব এই প্রথম দেখালেন তামিম ইকবাল। ঢাকা মেট্রোপলিটনের বিরুদ্ধে কাল মঙ্গলবার শেষ দিন আবার সেঞ্চুরি করেছেন। তাও দীর্ঘ পরিসরের মেজাজ ও ধরনে নয়। তামিমের স্টাইলে। মাত্র ৮৯ বলে তিন অঙ্কে পা রাখা দেশসেরা ওপেনার অপরাজিত ১১৩ রানে।
গত মার্চে বিসিবির সাবেক সভাপতি মোস্তফা কামালের অঙ্গুলি হেলনে এশিয়া কাপের প্রাথমিক স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছিলেন। সে ক্ষোভ মেটাতে এশিয়া কাপে হঠাত্ জ্বলে ওঠা। বিশ্বের তিন পরাশক্তি ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে চার ম্যাচে পরপর হাফ সেঞ্চুরি। এবার আর বাদ [........]
পড়ার ক্ষোভ নয়। বিপিএলের দল চিটাগাং কিংস থেকে নিগৃহীত হওয়ার দুঃখ। শতভাগ না পেলেও বিপিএলে সবাই টাকা পেয়েছেন। পাননি শুধু তামিম। জাতীয় লিগ শুরুর আগে পত্রিকায় তার সে না পাওয়ার দুঃখের কথা ছাপাও হয়েছে। তারপর মাঠে নেমেই দুর্বার। এটা কি নিজেকে মেলে ধরতে? নাকি চিটাগাং কিংস ফ্র্যাঞ্চাইজিদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখাতে-ক্রিকেট অঙ্গনে নানা প্রশ্ন। অনেক গুঞ্জন। তবে তামিমের মনে কোনো ক্ষোভ নেই। কাল পড়ন্ত বিকেলে সকালের খবরের সঙ্গে একান্ত আলাপে অনেক কথার ভিড়ে তামিম জানিয়ে দিয়েছেন, ‘আসল লক্ষ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে টেস্ট সিরিজ খেলা এবং নিজেকে মেলে ধরা। তার আগে প্রস্তুতি বলতে দুটি ম্যাচ। আমি সামর্থ্যের সবটুকু ঢেলে চেষ্টা করেছি ভালো খেলার। উইকেটও ভালো ছিল। চেষ্টা সফল হয়েছে। যা করতে চেয়েছি তাও হয়েছে।’
কোনো ক্যাম্প হয়নি। কোনো কোচের বিশেষ টিপস বা পরামর্শও নয়। পুরোটাই নিজের চেষ্টায়। এ চেষ্টা লম্বা সময় উইকেটে থাকার। দীর্ঘ ইনিংস খেলার অভ্যাস গড়ে তোলার। ‘হঠাত্ কোনো জাদুই চেরাগ পাইনি। বাড়তি মোটিভেশনও নয়। অনেক দিন ধরেই লম্বা ইনিংস খেলার ইচ্ছে। দীর্ঘ সময় উইকেটে টিকে থাকার আশা। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট ও টেস্টে সেঞ্চুরি করেছি। কিন্তু একদিন পুরো সময় ক্রিজে থাকতে পারিনি। কি করে পুরো দিন ব্যাট করা যায়-চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল বহুদিন। এবার তা পূর্ণ হয়েছে। একটা অন্যরকম ভালো লাগায় এসে ভর করেছে। আমিও একদিন পুরো সময় ব্যাট করতে পারি তা জানা হয়ে গেছে। সেটা একদিকে সন্তুষ্টির। তৃপ্তির। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিশেষ করে টেস্টে একদিন ক্রিজে থাকার অনুপ্রেরণা। পাশাপাশি একটা জটিল অঙ্ক সমাধানের মতো ফর্মুলাও জানা হয়েছে কীভাবে এবং কী কী করলে টেস্টে একদিন পুরো সময় উইকেটে থাকা যায়। সে অ্যাপ্রোচ-অ্যাপ্লিকেশন দরকার এবং কৌশল ও মেজাজ রপ্ত করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে আবার নিজের স্বভাবজাত ব্যাটিং করেছি। দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরি এসেছে ৮৯ বলে। উইকেট চমত্কার ছিল। একদম ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি। ব্যাটিং করে মজা পেয়েছি। আমি টেস্টে ঠিক এমন না হলেও স্পোর্টিং উইকেট চাই। যেখানে বোলার ও ব্যাটসম্যান উভয়েই নিজেকে মেলে ধরতে পারে। একতরফা উইকেট করে কোনো ফায়দা নেই। শুধু স্পিনিং ট্র্যাক করে লাভ হবে না। আমাদের পাশাপাশি ক্যারিবীয়দেরও স্পিনার আছে। স্পোর্টিং পিচ হলে ভালো হবে।’
উইকেট তৈরির দায়িত্বে থাকা বিসিবির কর্তারা এখন তামিমের কথা শুনলেই হয়!

No comments:
Post a Comment