বাংলাদেশ দলের পেস বোলিংয়ের অবস্থা কোনোকালেই খুব একটা ভালো ছিল না।
মাশরাফি মর্তুজা ইনজুরিতে পড়ায় বছর দুয়েক ধরে সেটা আরও খারাপ হয়ে গেছে। তবে
ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রাথমিক দলে ডাক পেয়েছেন দুই তরুণ
পেসার তাসকিন আহমেদ এবং আল আমিন। তাদের ঘিরে স্বপ্ন দেখছে ভবিষ্যৎ পেস
আক্রমণ। তবে ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে তাদের সুযোগ পাওয়ার
সম্ভাবনা খুবই কম।তাসকিনের উচ্ছ্বাসটা একটু বেশি। মাত্র ১৭ বছর বয়সেই জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন। হোক না সেটা প্রাথমিক দল, তারপরও জাতীয় দলের লেবেল তো আছে। উদীয়মান এ পেসার জানিয়েছেন, এরই মধ্যে ক্যারিবীয় ক্রিকেট দানব ক্রিস গেইলকে কীভাবে আক্রমণ করবেন, মনে মনে নাকি সে পরিকল্পনা করে ফেলেছেন। 'দলে থাকার খবরটা শুনেই মনের মধ্যে একটা ভিজুয়ালাইজেশন তৈরি হয়। সেখানে পরিষ্কার দেখতে পাই, গেইলকে বাউন্সারে ভড়কে দিচ্ছি আমি। সে ক্রিকটের সবচেয়ে মারমুখী ব্যাটসম্যান। তাই বলে তার কাছে ছক্কা খাওয়ার কথা ভুলেও আমার মনে আসে না। তবে মূল কথা হলো, সুযোগ পেলে লাইন-লেংথ ঠিক রেখে বল করে একেবারে শুরুতেই তার উইকেট তুলে নিতে চাই। তাকে আউট করতে পারলে দল অনেক লাভবান হবে'_ বলেছেন ডিসকভারি ক্রিকেট একাডেমী থেকে উঠে আসা এ তরুণ। ক'দিন আগে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলে আসা এ পেসারের মূল লক্ষ্য হলো, সুযোগ পেলে জাতীয় দলে জায়গাটা পাকা করে নেওয়া। আল আমিনেরও একই পরিকল্পনা। ২২ বছর বয়সী এ পেসার একাডেমী এবং 'এ' দলের হয়ে ক'বছর ধরেই পারফর্ম করছেন। তবে চূড়ান্ত টেস্ট স্কোয়াডে তাদের সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা কম। রুবেল হোসেন ইনজুরি থেকে উঠেছেন। জাতীয় লীগে দুটি ম্যাচ খেলেছেন। শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে তারই মাঠে নামার সম্ভাবনা বেশি। তবে চূড়ান্ত দলে সুযোগ না পেলেও তাসকিন এবং আল আমিন দু'জনই তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচের বিসিবি একাদশে আছেন। সেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে বোলিং করার সুযোগ আছে। কিন্তু বিরূপ আবহাওয়ায় সেটাও শঙ্কায় পড়ে গেছে।
দুই পেসারের সঙ্গে জাতীয় দলের প্রাথমিক দলে সুযোগ পেয়েছেন স্পিনিং অলরাউন্ডার সোহাগ গাজীও। জাতীয় লীগে ব্যাট-বলে দুর্দান্ত পারফর্ম করায় তাকে প্রাথমিক দলে রেখেছেন নির্বাচকরা। সোহাগ গাজী মূলত দলে এসেছেন সাকলায়েন মুশতাকের পছন্দে। 'এ' দলের হয়ে গত আগস্টে ভারত সফরে তার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন আম্পায়াররা। যে কারণে দেশের মাটিতে [.......]
ওয়েস্ট ইন্ডিজ হাইপারফরম্যান্স দলের বিপক্ষে খেলা হয়নি তার। কিন্তু ক'দিন আগে বাংলাদেশ দলের স্পিন কোচ সাকলায়েন মুশতাক তার বোলিংয়ের ভিডিও দেখে সার্টিফিকেট দেন, তার বোলিং অ্যাকশনে কোনো সমস্যা নেই। ইলিয়াস সানি, এনামুল জুনিয়রদের টপকে তারও চূড়ান্ত দলে জায়গা পাওয়াটা বেশ কঠিন। এরপরও তিন নবীন আশা ছাড়তে নারাজ। প্রাথমিক দলে যেহেতু ডাক পেয়েছেন, চূড়ান্ত স্কোয়াডেও সুযোগ আসতে পারে। সে সুযোগকে কাজে লাগানোর স্বপ্নে বিভোর তারা।

No comments:
Post a Comment