ঘুরে-ফিরে সেই পুরনো কাহিনী। দুই বছর আগে এ গুয়াংজুতে এশিয়ান গেমসে যা
হয়েছিল, এবার চীনের সেই শহরে এশিয়া কাপ টি-টুয়েন্টি আসরেও তাই হল। পার্থক্য
একটাই-২০১০-এ পাকিস্তানের কাছে হেরে রৌপ্যপদক নিয়েই সন্তুষ্ট ছিল
বাংলাদেশের মেয়েরা। আর এবার সেমির যুদ্ধে সেই পাকিস্তানের কাছে হেরে বিদায়
সালমা, ফারজানা, রুমানা, শুকতারা ও লতাদের। তবে আগের লড়াই ছিল চরম একপেশে।
পাকিস্তানি মেয়েরা জিতেছিল ১০ উইকেটে। কাল গুয়াংজু ইন্টারন্যাশনাল
স্টেডিয়ামে সেমির লড়াইয়ে পাকিস্তানের কাছে ৬ উইকেটে হেরেছে সালমার দল।
ফাইনাল হবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তানের। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে
সেমিফাইনালটি বৃষ্টিতে ধুয়েমুছে গেছে। একটি বলও হয়নি। রানগড় ভালো থাকায়
লঙ্কানদের টপকে ফাইনালে ভারত। নিজ মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে সিরিজ
থেকেই ব্যাটারদের ব্যাটে রান নেই। আশা-ভরসার কেন্দ্রবিন্দু অধিনায়ক সালমাই
রান করা ভুলে গেছেন। আরেক ব্যাটিং স্তম্ভ শুকতারা নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন।
তার ব্যাটেও রান নেই। ফারজানা-রুমানারাই যা করার করছেন। কিন্তু যতটা লম্বা
ইনিংস খেললে লড়িয়ে বা বড় পুঁজি গড়া সম্ভব, তারা তা পারছেন না। আর সে কারণেই
স্কোরলাইন ছোট। স্বাগতিক চীন ও নেপালের মতো দুর্বল ও কমজোরি দলগুলোর
সঙ্গেও [.......]কেউ হাফসেঞ্চুরি করতে পারেননি। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে জিতিয়েছেন বোলার সালমা। ৬ রানে ৪ উইকেটের পতন ঘটিয়ে দলকে ৫ রানের নাটকীয় জয় এনে দিয়েছেন। যে কারণে ৬২ রানের ছোট্ট পুঁজি নিয়েও জয় ধরা দিয়েছিল। কালও একই অবস্থা। প্রতিষ্ঠিত ব্যাটারদের কেউ ভালো খেলেননি। সবচেয়ে বেশি (৪৪ বলে ২৮) রান এসেছে ওপেনার ফারজানার ব্যাট থেকে। দ্বিতীয় সর্বাধিক ১৬ রান (১৭ বলে) করেছেন ফর্মের কারণে ওপেনার থেকে আট নম্বরে নেমে আসা আয়শা রহমান শুকতারা। অধিনায়ক সালমার সংগ্রহ ১৪ (১৮ বলে)। ব্যাটারদের ব্যর্থতার চিত্র ফুটে ওঠে একটি পরিসংখ্যানে। নয়জন ব্যাটার মিলে চার হাঁকিয়েছেন মাত্র দুটি। একটি ওপেনার ফারজানা অন্যটি শুকতারা।
৮২ রানের মাঝারি পুঁজি নিয়ে পাকিস্তানি মেয়েদের আটকে রাখা কঠিন। স্পিনে ভালো খেলা বিসমাহ মারুফ আর নিদা দারদের দমানো যায়নি। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে জয়ের নায়িকা সালমার বলে ঝুঁকিপূর্ণ শট না খেলে দেখে খেলেছেন দু’জন। আর স্পিন ট্র্যাম্পকার্ড খাদিজাতুল কুবরাকে থামানো হয়েছে প্রবল আক্রমণ করে। তার এক ওভারে ২ চার হাঁকান নিদা। ওই ওভারে আসে ১২ রান। তারপর ১৪ বল আগে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে পাকিস্তান। ১৩ রানে ২ উইকেট দখলের পর ২৪ বলে ২৫ রানের অনবদ্য ইনিংস উপহার দিয়ে ম্যাচসেরা নিদা দার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ : ৮২/৭, ২০ ওভার (ফারজানা ২৮, সানজিদা ৬, রুমানা ৪, সালমা ১৪, শুকতারা ১৬*; নিলা দার ২/১৩, বিসমাহ ২/৯)। পাকিস্তান : ৮৩/৪, ১৭.৪ ওভার (বিসমাহ ২৭*, নিদা ২৫, নাইন আবেদি ১১*; জাহানারা ১/১১, পান্না ঘোষ ১/৭, রুমানা ১/১২, শুকতারা ১/১৮)।
ফল : পাকিস্তান ৬ উইকেটে জয়ী।

No comments:
Post a Comment