বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) নাটক যেন জমে উঠছে ক্রমেই। অর্থই অনর্থের
মূল তা আবারো হাড়ে হাড়ে বুঝিয়ে দিচ্ছে এবারের বিপিএল নাটক। ‘বহিষ্কার’,
‘কোন মহলের ষড়যন্ত্র’ এমন সব শব্দে এখন বিপিএল’র আকাশ-বাতাস ভারি। দুই
ফ্র্যাঞ্চাইজি ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস আর দুরন্ত রাজশাহীর মালিকানা প্রায়
স্থগিত। এমনই সংবাদ এখন আকাশে উড়ছে। তবে দুরন্ত রাজশাহীর কর্ণধার মুশফিকুর
রহমান মোহনের দাবি অন্যরকম। তিনি মনে করেন টাকা পাওনা এটা এমন কিছুই না।
তিনি বলেন, ‘ষড়যন্ত্র হচ্ছে বিপিএল নিয়ে আর আমার দলকে নিয়ে। আমাদের কাছে
টাকা পাবে ঠিক, আরও অনেকের কাছেই পাবে। কিন্তু তা আমরা দিতেও প্রস্তুত। এই
বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি আমাদের সঙ্গে আলোচনাও শুরু করেছেন।
তিনিও সমস্যার সমাধান আলোচনার মধ্যেই করতে চাইছেন। তার পরও এই ধরনের
সংবাদকে [........]ষড়যন্ত্রই বলা চলে। আর এমন চললে ১৭ই জানুয়ারি বিপিএল’র দ্বিতীয় আসর কতটা সুষ্ঠুভাবে শুরু হবে তাও এখন প্রশ্ন- আমাদের কাছে।’
একটা সময় ছিল যখন মানুষ সব চুক্তি সম্পাদন করতো মুখে মুখে। বিসিবিও অনেকটা সেই যুগে ফিরে গেছে। বিপিএল’র ফ্র্যাঞ্চাইজিদের চুক্তি এখনও কাগজে রূপ পায়নি। বর্তমান সমস্যা সমাধানে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের পক্ষে বা বিসিসি’র পক্ষ থেকে টাকা পরিশোধের জন্য কোন চিঠি, কোন শোকজ নোটিশ এমনকি ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকানা স্থগিত করা হয়েছে এমন কোন লিখিত নোটিশ পায়নি দু’টি দলই। আর এমনটা দাবি করে মোহন বলেন, ‘এসব বিষয়ে আমরা এখনও বিসিবি বা বিপিএল’র গভর্নিং কাউন্সিলের পক্ষ থেকে কোন লিখিত নোটিশ পাইনি।’
আরও জানা গেল এখন পর্যন্ত ফ্র্যাঞ্চাইজিদের সঙ্গে চুক্তি না হওয়ার আসল রহস্য। চুক্তির জন্য যে দলিল বা নথি তৈরি হওয়ার কথা তা নিয়েই চলছে দুই পক্ষের দর কষাকষি। মুশফিকুর রহমান মোহন বলেন, ‘বিপিএল-এর শুরুতে নিলামের সময় চুক্তিপত্র তৈরি হয়েছিল। আর তাতে লিখা ছিল একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির কর্ণধার ৬ বছর পর্যন্ত বছরে ১ লাখ ১০ হাজার ডলার রেজিস্ট্রেশন ফি পরিশোধ করবে। সেই হিসাবে ৬ বছরে রেজিস্ট্রেশন ফি আমাদের দিতে হতো ৬ লাখ ১০ হাজার ডলার। আর ৬ বছর পর এই ফ্র্যাঞ্চাইজির স্থায়ী মালিক হয়ে যেতাম। আমাদের আর রেজিস্ট্রেশন-ফি দিতে হতো না। তবে আমাদের লাভের ২০ ভাগ রেভিনিউ হিসেবে বিসিবিকে দিতাম। এই নিয়ম ভারতের আইপিএল-এও প্রচলিত। কিন্তু বিপিএল শেষ হওয়ার পর রাতারাতি সেই চুক্তির নমুনা পরিবর্তন হয়ে গেল। নতুনভাবে যুক্ত হলো ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকদের ১০ বছর পর্যন্ত প্রতি বছর ১ লাখ ১০ হাজার ডলার করে পরিশোধ করতে হবে। আর এই দশ বছর শেষ হলে সেই দলটির মালিক হয়ে যাবে বিসিবি। কিন্তু যে এই দলটি দশ বছর এতা টাকা খরচ করে চালাবে সেই ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক ১০ বছর পর কিছুই পাবে না, তিনি সেই দলের কিছুই থাকবে না। এটা কি করে মেনে নেয়া যায়? আর তাই এতো দিনেও চুক্তি হয়নি।’
বিসিবি’র বর্তমান বেশ কিছু অরাজকতার মূল কারণ এই চুক্তিহীন কর্মকাণ্ড। আর এই কারণ চিহ্নিত করেছেন বিসিবি’র নয়া সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনও। বিশেষ করে বিপিএল ও পাইবাস ইস্যুতে যত সমস্যা হয়েছে তা এই অনুষ্ঠানিক চুক্তি না হওয়াতে হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। অন্যদিকে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের পক্ষে মুশফিকুর রহমান মোহন দাবি করে বলেন, ‘আমরা সব টাকা দিতে প্রস্তুত। আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসুক। আমারাও চাই বিপিএল চলুক। বন্ধ হয়ে না যাক। তাই আলোচনা ছাড়া এই সমস্যা সমাধান সম্ভব না।’ তিনি আরও দাবি করেন, যদি এমনই চলতে থাকে তাহলে বিপিএল’র উপর আস্থা হারাবে স্পন্সররা। কারণ বিপিএল কোন চ্যারিটি শো না। এখানে কোটি কোটি টাকা ইনভেস্ট করা হয়। এখানে লাভ-লোকসানের বিষয় জড়িত। তাই আমরা বিসিবি সভাপতির কাছে অনুরোধ করবো এই বিষয়গুলো আলোচনার টেবিলেই সমাধান করতে।’

No comments:
Post a Comment