আগের দিনও খুলনার আকাশে ছিল হারের আশঙ্কা। প্রথম ইনিংসে অনেক ব্যবধানে
পিছিয়ে থাকায় এগিয়ে ছিল রংপুর দল। কিন্তু কাল সব সংশয় উড়িয়ে দেন আনামুল হক।
তার হার না মানা শতকে শেষ দিনে চমক দেখিয়েছে স্বাগতিক খুলনা বিভাগ। খুলনা
বিভাগীয় (শেখ আবু নাসের) স্টেডিয়ামে বৃষ্টি-বিঘ্নিত ২য় ইনিংসে তারা রংপুরকে
মাত্র ৯২ রানে অলআউট করে। দুই জয়ে ১২ পয়েন্ট নিয়ে খুলনা এখন পয়েন্ট
তালিকার শীর্ষে। ১ম ইনিংসে ১৩৯ রানে পিছিয়ে থাকা খুলনার শেষ দিনে জয়ের জন্য
প্রয়োজন ছিল ২৩২ রানের। খুলনা ৪৬ দশমিক ৫ ওভার খেলে ৫ উইকেট হারিয়ে সহজেই
লক্ষ্যে পৌঁছায়। দলের পক্ষে আনামুল হক সর্বোচ্চ অপরাজিত ১০৪ রান করেন। তার
১২৩ বলের ইনিংসে ৬টি চক্কা ও ৭টি চার মারেন তিনি। ১২০ থেকে ১৪০ রানের
মধ্যে ৪টি উইকেট পড়ার পর খুলনা শিবিরে ফের হারের আশঙ্কা জাগে। তিনটি উইকেটই
নেন স্পিনার তানভীর হায়দার। কিন্তু ষষ্ঠ উইকেটে আনামুল ও তুষার ইমরান
অপরাজিত ৯৪ রানের জুটি গড়ে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। ২০ বছর বয়সী আনামুলের
এটি ষষ্ঠ প্রথম শ্রেণীর সেঞ্চুরি। তুষার ইমরান অপরাজিত থাকেন ৩৪ রান করে।
৭৭ বলে এ রান করে সংযমের পরিচয় দেন সাবেক এ টেস্ট ক্রিকেটার। এ ছাড়া সৌম্য
সরকার করেন ৪৫ রান। জাতীয় দলের সাবেক ওপেনার ইমরুল কায়েস দুই ইনিংসেই শূন্য
রানে আউট হন। এবার অবশ্য তার অবস্থান ছিল টু ডাউন ব্যাটসম্যান হিসেবে। গত শুক্রবার শুরু হওয়া ১৪তম জাতীয় ক্রিকেট লীগের দ্বিতীয় রাউন্ডের এ খেলার ১ম ইনিংসে রংপুর করে ৩৮৮ রান। খুলনা ১ম ইনিংসে ২৪৯ রানে অলআউট হয়। ২য় ইনিংসে [........]
চমক দেখিয়ে খুলনা মাত্র ৯২ রানে রংপুরকে অলআউট করে। জয়ের জন্য এ সময় প্রয়োজন হয়ে পড়ে ২৩১ রানের। শেষ পর্যন্ত ৪৬ দশমিক ৫ ওভার খেলে খুলনা ২৩৪ রান সংগ্রহ করে। খুলনার পক্ষে সাকিব আল হাসান ১ম ইনিংসে ২৫ ও ২য় ইনিংসে ১১ রান করেছেন। অলরাউন্ড নৈপুণ্যের জন্য ম্যাচ সেরার পুরস্কার পান সৌম্য সরকার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
রংপুর বিভাগ (১ম ইনিংস) ৩৮৮ ও (২য় ইনিংস) ৯২। খুলনা বিভাগ (১ম ইনিংস) ২৪৯ ও (২য় ইনিংস) ২৩৪/৫ (আনামুল ১০৪ অপরাজিত, সৌম্য ৪৫, তুষার ৩৪*, সাকিব ১১, তানভীর ৩/৩৭।
ফল : খুলনা বিভাগ ৫ উইকেটে জয়ী।
বল গড়ায়নি অন্য তিন ভেন্যুতে
বৃষ্টির কারণে দ্বিতীয় দিনের মতো কোন বল গড়ায়নি বিকেএসপি, মিরপুর ও রাজশাহীর মাঠে। ফলে ঢাকা ও ঢাকা মেট্রো, রাজশাহী ও বরিশাল এবং চট্টগ্রাম ও সিলেটের মধ্যকার খেলা অমীমাংসিতভাবে শেষ হয়। ঢাকা মেট্রো ৮ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় ও ঢাকা বিভাগ ৭ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে পয়েন্ট তালিকায়। চট্টগ্রাম ও সিলেটের পয়েন্ট ৬। রাজশাহীর পয়েন্ট ৫ আর বরিশালের ৩। সব নিচে থাকা রংপুরের সংগ্রহ ২। দুই ঢাকার খেলায় ম্যাচ সেরার পুরস্কার দেয়া হয় আসিফ আহমেদকে তার ৮৬ রানের জন্য।

No comments:
Post a Comment