সময় এবং স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না। চলে তার আপন গতিতে। মনে হবে এইতো
সে দিনের কথা। ২০১০ সালের ১০ নভেম্বর। অভিষেক টেস্ট খেলতে নেমেছে টেস্ট
পরিবারের সর্বকনিষ্ট সদস্য বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ ভারত। অভিষেকেই চোখ
ধাঁধাঁনো নৈপুণ্য। ক্রিকেট বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেয়া খেলা। প্রথম ইনিংসে
বাংলাদেশের ব্যাটিং-বোলিং ছিল ঈর্ষণীয়। চারশ’ রানের ইনিংস। আমিনুল ইসলাম
বুলবুলের ১৪৫ রান। অধিনায়ক নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের ৪৪.৩ ওভারে ১৩২ রানে ছয়
উইকেট। কি আর লাগে। অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে গোটা ক্রিকেট বিশ্ব। আর ঘোরের মাঝে
গোটা বাঙালি জাতি। কিভাবে শেষ করবে বাংলাদেশ অভিষেক টেস্ট। এর মাঝে মজার
বিষয় ছিল আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সেঞ্চুরি করার দিনটি (টেস্টের দ্বিতীয়
দিন)। প্রথম দিন শেষে আমিনুল ইসলাম বুলবুল ৭০ রানে অপরাজিত। দ্বিতীয় দিন
তিনি তিন অংকের মাইল ফলক স্পর্শ করে সে ইনিংস টেনে নিয়ে যান ১৪৫ পর্যন্ত।
দিনটি ছিল আবার শবেবরাত। পরের দিন সব পত্রিকা অফিস বন্ধ। আমিনুল ইসলাম
বুলবুল এরকম একটি কীর্তি গড়বেন। আর তা ছাপার অক্ষরে লেখা হবে না। তা কি করে
হয়। পত্রিকা বের না হতে পারে। বুলেটিনতো বের হতে পারে। কিন্তু তাও কিভাবে।
টেস্ট ম্যাচ কভার করতে থাকা বাংলাদেশের সাংবাদিকরা নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে
স্পন্সর জোগাড় করে নিজেদের লেখা দিয়েই পরের দিন বের করেন ‘প্রেসবক্স’ নামে
বুলেটিন। আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কীর্তিগাথা এভাবেই [........]
স্মৃতিময় হয়ে থাকে। পরের দিন ‘প্রেসবক্সে’র চাহিদা এতটাই আকাশচুম্বি ছিল যে, মুহূর্তেই তা শেষ হয়ে যায়। কারণ পরে যিনি জেনেছেন তিনিই একটি সংখ্যার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছিলেন। আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কাছে আজো স্বযতেœ সংগৃহিত আছে সে বুলেটিন।
আমিনুল ইসলাম বলবুলের এরকম নৈপুণ্যের পর বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় চারশ’। পরে ভারতের ইনিংস শেষ হয় ৪২৯ রানে। মূলত ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনকে এভাবে আটকে রাখা সম্ভব হয়েছিল অধিনায়ক নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের অফ স্পিনের ভেল্কিতে। কিন্তু শুরুর এ কীর্তি পরে আর বাংলাদেশ ধরে রাখতে পারেনি। দ্বিতীয় ইনিংসেই মুখ থুবড়ে পড়ে বাংলাদেশের ইনিংস। মাত্র ৯১ রানে অলআউট হয় তারা। প্রথম ইনিংসে ২৯ রানে এগিয়ে থাকা ভারতের জয়ের জন্য প্রয়োজন পড়ে মাত্র ৬৩ রানের। এক উইকেট হারিয়েই তার লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। খেলাও শেষ হয় চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনেই (১৫ ওভারে)। অভিষেক টেস্ট খেলা হাসিবুল হোসেন স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘অভিষেক টেস্ট নিয়ে কোনো চিন্তা-ভাবনা ছিল না। কিভাবে টেস্ট খেলব, টেম্পারমেন্ট ধরে রাখা এসব সম্বন্ধে কোনো ধারণাই ছিল না। আর দশটি ম্যাচের মতোই অভিষেক টেস্ট খেলেছিলাম। মনে হয়েছে টেস্ট ম্যাচ খেলা খুবই সহজ।’ কোনো টেনশন ছিল না বলে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে তারা এতটা ভালো খেলতে পেরেছিলেন বলে হাসিবুল হোসেন শান্ত জানান। কিন্তু টেস্ট ম্যাচ যে সহজ না তা বুঝতে তাদের মোটেই সময় লাগেনি। দ্বিতীয় ইনিংসে তার ৯১ রানে অলআউট আর চারদিনে খেলা শেষ হওয়ার মাধ্যমেই তারা বুঝতে পেরেছেন।
চোখের পলকে পার হয়ে গেছে টেস্ট ক্রিকেট খেলার ১২ বছর। এই ১২ বছরে বাংলাদেশের ক্রিকেট যতটুকু এগুনোর কথা ছিল তা কি এগুতে পেরেছে? অন্তত অভিষেক টেস্টের দিকে ফিরে তাকালে এক ধরনের শূন্যতা বিরাজ করে। উন্নতির পরিবর্তে হয়েছে অবনতি। এরপর চারশ’ রানের ইনিংস বাংলাদেশ দল করতে পেরেছে মাত্র পাঁচটিতে। ৭৩ টেস্ট খেলে জয় পেয়েছে মাত্র তিনটিতে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুটি ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পাওয়া একটি জয় ছিল প্রতিপক্ষের অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলের বিপক্ষে। হেরেছে ৬৩টি ম্যাচে। যার অধিকাংশ তিনদিনের ও ইনিংস ব্যবধানে। এভাবে ভালো করতে না পারার কারণ কি? বর্তমানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের লিয়াজোঁ অফিসারের দায়িত্ব পালন করা হাসিবুল হোসেন শান্ত বলেন, ‘এখন যারা খেলছে তারা জানে কিভাবে টেস্ট খেলতে হয়। একটা সময় আসবে যখন বাংলাদেশও টেস্টে ভালো খেলবে।’
হাসিবুল হোসেন শান্তর মতো আরো অনেকেই বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে আশাবাদী। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন; নিমর্ম। বাংলাদেশের ক্রিকেটের মানের অবনতির কারণে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার মতো দল বাংলাদেশকে তাদের দেশে টেস্ট ক্রিকেট খেলতে আমন্ত্রণ জানাতে আগ্রহ দেখায় না। তার চেয়েও নিমর্ম অভিষেক টেস্টের প্রতিপক্ষ ভারতে গিয়ে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত কোনো টেস্ট ম্যাচ খেলা হয়নি। আইসিসির নতুন এফটিফিতেও নেই কোনো সূচি! এভাবেই কি চলবে বাংলাদেশের ক্রিকেট। আর স্মৃতিতে ভাস্বর হয়ে থাকবে অভিষেক টেস্টের সাফল্য!
স্মৃতিময় হয়ে থাকে। পরের দিন ‘প্রেসবক্সে’র চাহিদা এতটাই আকাশচুম্বি ছিল যে, মুহূর্তেই তা শেষ হয়ে যায়। কারণ পরে যিনি জেনেছেন তিনিই একটি সংখ্যার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছিলেন। আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কাছে আজো স্বযতেœ সংগৃহিত আছে সে বুলেটিন।
আমিনুল ইসলাম বলবুলের এরকম নৈপুণ্যের পর বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় চারশ’। পরে ভারতের ইনিংস শেষ হয় ৪২৯ রানে। মূলত ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনকে এভাবে আটকে রাখা সম্ভব হয়েছিল অধিনায়ক নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের অফ স্পিনের ভেল্কিতে। কিন্তু শুরুর এ কীর্তি পরে আর বাংলাদেশ ধরে রাখতে পারেনি। দ্বিতীয় ইনিংসেই মুখ থুবড়ে পড়ে বাংলাদেশের ইনিংস। মাত্র ৯১ রানে অলআউট হয় তারা। প্রথম ইনিংসে ২৯ রানে এগিয়ে থাকা ভারতের জয়ের জন্য প্রয়োজন পড়ে মাত্র ৬৩ রানের। এক উইকেট হারিয়েই তার লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। খেলাও শেষ হয় চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনেই (১৫ ওভারে)। অভিষেক টেস্ট খেলা হাসিবুল হোসেন স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘অভিষেক টেস্ট নিয়ে কোনো চিন্তা-ভাবনা ছিল না। কিভাবে টেস্ট খেলব, টেম্পারমেন্ট ধরে রাখা এসব সম্বন্ধে কোনো ধারণাই ছিল না। আর দশটি ম্যাচের মতোই অভিষেক টেস্ট খেলেছিলাম। মনে হয়েছে টেস্ট ম্যাচ খেলা খুবই সহজ।’ কোনো টেনশন ছিল না বলে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে তারা এতটা ভালো খেলতে পেরেছিলেন বলে হাসিবুল হোসেন শান্ত জানান। কিন্তু টেস্ট ম্যাচ যে সহজ না তা বুঝতে তাদের মোটেই সময় লাগেনি। দ্বিতীয় ইনিংসে তার ৯১ রানে অলআউট আর চারদিনে খেলা শেষ হওয়ার মাধ্যমেই তারা বুঝতে পেরেছেন।
চোখের পলকে পার হয়ে গেছে টেস্ট ক্রিকেট খেলার ১২ বছর। এই ১২ বছরে বাংলাদেশের ক্রিকেট যতটুকু এগুনোর কথা ছিল তা কি এগুতে পেরেছে? অন্তত অভিষেক টেস্টের দিকে ফিরে তাকালে এক ধরনের শূন্যতা বিরাজ করে। উন্নতির পরিবর্তে হয়েছে অবনতি। এরপর চারশ’ রানের ইনিংস বাংলাদেশ দল করতে পেরেছে মাত্র পাঁচটিতে। ৭৩ টেস্ট খেলে জয় পেয়েছে মাত্র তিনটিতে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুটি ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পাওয়া একটি জয় ছিল প্রতিপক্ষের অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলের বিপক্ষে। হেরেছে ৬৩টি ম্যাচে। যার অধিকাংশ তিনদিনের ও ইনিংস ব্যবধানে। এভাবে ভালো করতে না পারার কারণ কি? বর্তমানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের লিয়াজোঁ অফিসারের দায়িত্ব পালন করা হাসিবুল হোসেন শান্ত বলেন, ‘এখন যারা খেলছে তারা জানে কিভাবে টেস্ট খেলতে হয়। একটা সময় আসবে যখন বাংলাদেশও টেস্টে ভালো খেলবে।’
হাসিবুল হোসেন শান্তর মতো আরো অনেকেই বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে আশাবাদী। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন; নিমর্ম। বাংলাদেশের ক্রিকেটের মানের অবনতির কারণে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার মতো দল বাংলাদেশকে তাদের দেশে টেস্ট ক্রিকেট খেলতে আমন্ত্রণ জানাতে আগ্রহ দেখায় না। তার চেয়েও নিমর্ম অভিষেক টেস্টের প্রতিপক্ষ ভারতে গিয়ে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত কোনো টেস্ট ম্যাচ খেলা হয়নি। আইসিসির নতুন এফটিফিতেও নেই কোনো সূচি! এভাবেই কি চলবে বাংলাদেশের ক্রিকেট। আর স্মৃতিতে ভাস্বর হয়ে থাকবে অভিষেক টেস্টের সাফল্য!


No comments:
Post a Comment