প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির হাতছানি ছিল। মাত্র ২৪ রান
করতে পারলেই এ কৃতিত্বের অধিকারী হতেন তামিম ইকবাল। বগুড়ার শহীদ চান্দু
স্টেডিয়ামে প্রথম দিন তার ব্যাট যেভাবে ঢাকা মেট্রোর বোলিংকে শাসন করেছে,
তাতে অতিবড় সমালোচকও ভাবেননি তামিম ইকবাল ডাবল সেঞ্চুরি করতে পারবেন না।
তামিম নিজেও আশাবাদী ছিলেন। আগের দিন সকালের খবরের সঙ্গে আলাপে বলেছিলেন,
রোববার প্রথম ঘণ্টা উইকেটে টিকে থাকতে পারলেই আশা করি হয়ে যাবে। কিন্তু সে
কাজটিই হয়নি। মাত্র ৮ রানের জন্য ডাবল সেঞ্চুরিয়ান হতে পারেননি দেশসেরা
ওপেনার।জাতীয় দলের অন্যতম নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নুর ধারণা, অতি আক্রমণাত্মক মনোভাবের কারণেই ডাবল সেঞ্চুরি হয়নি। নান্নুর ব্যাখ্যা, ‘প্রথম দিন যেভাবে প্রতিটি বল দেখে খেলেছে, কাল সকালে তা না করে একটু বেশি চালিয়ে খেলেছে তামিম। বোঝাই যাচ্ছিল, যত দ্রুত .........................
সম্ভব লক্ষ্য পূরণের চেষ্টা ছিল।’ মিনহাজুল আবেদিনের মন্তব্যকে সঠিক বলছে পরিসংখ্যান। প্রথম দিন ১৭ চার ও ১ ছক্কায় ১৭৬ রানে নটআউট তামিম কাল যে ১৬ রান করেছেন, তার ১২-ই আসে বাউন্ডারি থেকে। আউটও হয়েছেন বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে। ঢাকা মেট্রো পেসার তাসকিনের খাটো লেংথের ডেলিভারিকে পুল করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু বল তার প্রত্যাশার চেয়ে একটু নিচে থাকায় ঘটে বিপত্তি। ব্যাটের উপরের দিকে লেগে বল চলে যায় মিডঅনে। সেই সঙ্গে ভাঙে তামিমের ডাবল সেঞ্চুরির স্বপ্ন।
আশা পূরণ না হওয়ার বেদনায় ভেতরে রক্তক্ষরণ হচ্ছে অবশ্যই। তবে মুখে তা প্রকাশ পায়নি। বলেছেন, ‘হ্যাঁ খারাপ লেগেছে। আশায় ছিলাম। কিন্তু হয়নি। মন খারাপও হয়েছে। তারপরও বেশি খারাপ লাগেনি। কারণ আগের দিনই একটা লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। আমি একদিন ব্যাট করতে চেয়েছিলাম। তা পেরেছি।’ এদিকে তামিম আউট হওয়ার আগেই ছন্দপতন। রোববার দিনের প্রথম ওভারেই আউট মমিনুল। ১২০ রানে নটআউট এ বাঁহাতি তরুণ কোনো রান যোগ না করেই ফিরে গেছেন। ৩৭২ রানে চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে তামিম আউট হওয়ার পর মড়ক লাগে। বাকি ৩৬ রানেই বাকি ৬ উইকেটের পতন। ২ উইকেটে ৩৪৫ থেকে ৪০৮ অল আউট। মিডল ও লেট অর্ডার ব্যাটিং ব্যর্থতাই শেষ নয়। পরে বোলিংয়েও সুবিধা হয়নি। পাল্টা ব্যাটিংয়ে নেমে দুর্বার ঢাকা মেট্রোও। মিডল অর্ডার মার্শাল আইয়ুবের সেঞ্চুরি (১০০*) আর শামসুর রহমান (৫৬) ও মেহরাব জুনিয়রের (৫৩*) জোড়া হাফসেঞ্চুরিতে ঢাকার জবাব ৩ উইকেটে ২৩৭ রান।
নাঈমের সেঞ্চুরি
১২ রান পেছনে থাকা নাঈম ইসলামের লক্ষ্য পূরণ। প্রথম ম্যাচে সেঞ্চুরি করা রংপুর সহঅধিনায়ক অপরাজিত ১৩৭ রানে। এ ইনিংসের ওপর ভর করে রংপুর ক্রিকেট গার্ডেনে স্বাগতিক দলের স্কোর ২৯৫ রান। জবাবে টপ অর্ডার রুম্মন (৭৫) আর অধিনায়ক অলক কাপালির (৪৭*) দৃঢ়তায় সিলেটের স্কোর ৪ উইকেটে ১৬৮।
সোহাগ গাজীর এক দিন
খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে কাল দ্বিতীয় দিনকে নিজের করে ফেলেছেন সোহাগ গাজী। সেঞ্চুরির পাশাপাশি ২৬ রানে ৪ উইকেট দখল করেছেন তিনি। এ তরুণ অফ স্পিনার কাম লেট অর্ডারের দুর্দান্ত অলরাউন্ডিং পারফরম্যান্স আশা জাগাচ্ছে বরিশালকে। তার একার কাছেই বিপাকে খুলনা। ৩১৪ রানে অল আউট স্বাগতিক দল দ্বিতীয়বার ব্যাটিংয়ে নেমে সোহাগ গাজীর জাদুকরী স্পিনে চরম বিপাকে। ৬৭ রানেই খোয়া গেছে ৫ উইকেট। প্রথম ইনিংসে ৩৬ রানে এগিয়ে থাকা রাজ্জাকের দল এখন ১০৯ রানে এগিয়ে। প্রথম ইনিংসে ২ উইকেট পাওয়া সোহাগ গাজী ওয়ানডে মেজাজে খেলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন। ৯৩ বলে ১১৯ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলার পথে শুধু বাউন্ডারি (১৭) ও ছক্কা (২) দিয়েই ৮০ রান করেন সোহাগ।

No comments:
Post a Comment